আজ তার বিয়ে..
লেখা : আল-ফাত্তাহ্
আর সবার মতই এমার একটা গার্ল্ফ্রেন্ড ছিলো। খুব ভালোবাসতাম৷ আর সেও আমাকে কম ভালোবাসেনি। খুব ভালো বাসতো আমাকে। আমি দাঁড়িয়ে আছি ওদের বাড়ির এক কোণায়। কেনো জানেন...? শুধু ওকে একবার বধু রূপে দেখবো বলে৷ হ্যা দেখেওছি। খুব সুন্দর দেখাচ্ছিলো পাগলিটাকে। টানা টানা চোখ দুটো কাজল দিয়েছে। কিযে সুন্দর দেখাচ্ছে। ঠোটে টকটকে লাল লিবিস্টিক। আর লাল বেনারসি শাড়ি শাড়ি৷ লালের সাথে বিষন যায় ওকে।
পাগলিটার লাল রঙ ভিষন পছন্দ ছিলো৷ যেদিন যেদিন দেখা করতে যেতাম সাথে লাল গোলাপ না নিলে অনেক মন খারাপ করতো। কখনো আমার কাছে আবদার করেনি দামী রেস্টুরেন্টে নিয়া চলো। কখনো আবদার করেনি দামী কোন গিফট। ওর ২০ টাকার ফুসকা হলেই চলতো। কি যে মজা করে খেত। আমি শুধু ওর খাওয়া দেখতাম। ওর খাওয়া দেখলেই আমার পেট ভরে যেতো। আর আমারো মনটা ভালো হয়ে যেতো৷ সব মিলিয়ে আমার জন্য পার্ফেক্ট ছিলো।
কিন্তু আমি কখনোই ওর জন্য পার্ফেক্ট ছিলাম না। ওরা ছিলো আমার থেকে একটু উপর পর্যায়ের মানুষ। মানে বুঝতেই পারতেছেন...? মধ্যবিত্ত পরিবারের মধ্যে উচ্চ বিত্ত ছিলো। অনেক কষ্ট করে বাড়িতে আমার কথা বলে সবাইকে বুঝাইছিলো। আর আমিও ওর কথা সবাই কে বলি আমার বাড়ির। দুই পরিবারের সবাই রাজি ছিলো। আমরা প্রতিদিন বিকেলে ঘুড়তে বের হতাম। ওর পাশে আমাকে একদমি মানাতো না আমার মতে। আমার গায়ের রঙ শ্যামলা। কিন্তু ওর শরীরে সামান্য টোকা লাগলেই যেনো রক্তে লাল হয়ে যাচ্ছিলো। এত্ত ফর্সা ছিলো। কিন্তু কখনই নিজেকে নিয়ে অহংকার করতো না।
প্রতি রাতে স্বপ্ন দেখতাম দুজনে বিয়ের পর কি কি করবো। ঝগড়া করবো।তবে আমাদের ঝগড়া টা হবে মিষ্টি। স্বপ্ন দেখতাম একটাই প্লেটে ভাত খাবো। স্বপ্ন দেখতাম একটাই বালিশে ঘুমাবো দুজন।দাঁড়িয়ে পাগলিটাকে দেখতেছি আর ভাবতেছি ওর কথা। ও আমার থেকে কিছুটা দূরে বসে আছে চেয়ারে। পাশেই আরেকটা চেয়ার খালি পড়ে আছে। কিছুক্ষনের মধ্যেই ওই চেয়ার টাও আর খালি পড়ে থাকবে না। যখন ওর বড় চলে আসবে তখন ওই চেয়ার টাও আর খালি থাকবে না। কিছুক্ষন পরেই পাগলিটার মুখের দিকে তাকালাম। মনটা ভিষন খারাপ৷ চোখ দুটো একটু ফুলে গেছে। হয়তো অনেক কান্না করেছে।
আপনাদের মনে হয়তো একটা প্রশ্ন জেগেছে। আমাদের দুই পরিবারি যখন রাজি ছিলো তখন বিয়েটা অন্য কারোর সাথে হচ্ছে কেনো? হুম এখন বলতেছি সেই কথা। একদিন সকালে আমার খুব মাথায় ব্যাথা উঠছে। আমি সয্য করতে পারতেছিলাম না৷ পরে আব্বু আমার অবস্থা খারাপ দেখে ডক্টর এর কাছে নিয়ে যায়। ডক্টর অবস্থা খারাপ দেখে কয়েকটা টেষ্ট দিছে। এবং সাথে সাথে ট্যাস্ট গুলা করেছি। পরে ডক্টর যেটা বলেছে সেইটা শোনার জন্য আমরা কখনই প্রস্তুত ছিলাম না। আব্বু কথাটা শোনার পড় আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করে দেয়। আমি একটুও কাদিনি। ওনেক কষ্টে শক্ত থেকেছি। আব্বু আমাকে জড়িয়ে ধরে বাচ্চা ছেলের মতন কান্না করতেছে। আমি আব্বু সান্ত করার চেষ্টা করলাম। আব্বুকে বললাম আব্বু কাইদোনা৷ আরেহ আমরা তো কেউই চিরোস্থায়ী না৷ একদিন আগে পরে সবাই তো এই দুনিয়া ছেড়ে চলে যাবো৷ আরো বললাম আম্মুরা যেনো কেউওই না জানে এই কথাটা। আব্বুকে অনেক বুঝিয়ে অনেক কষ্টে নিয়া আসছিলাম বাসায়।
এতক্ষনে আপনাদের মনে আমাকে নিয়ে আরেকটা প্রশ্ন জেগেছে নিশ্চই...? আমার আসলে কি হয়েছে...? আমার আসলে ব্রেনে একটা বিশাল টিউমার এর জন্ম হয়েছে৷ আর এমন একটা অবস্থায় ধরা পড়েছে সেটা যে এখন আর কারোর কিছু করার নাই মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া আমার আর কিছু করার নেই। বাসায় সব সাভাবিক চলছিলো কিন্তু ঋষার আর সম্পর্কটা ঠিক ছিলো না। আমি আসতে আসতে অবহেলা করতে থাকি ওকে। কারণ সত্যিটা যদি ওকে বলতাম তাহলে হয়তো ও আমার আগে মারা যাবে। পাগলিটা খুব ভালোবাসে আমাকে।
কথা গুলা মনে করতে করতেই সবাই চিল্লায়া উঠেছে বর এসেছে বর এসেছে৷ বর কে সোজা নিয়ে এসে ঋষার পাশেই বসানো হলো৷ ওহ বোলতেই ভূলেগেছি ওদের বিয়েটা হচ্ছে কমিউনিটি সেন্টারে।হঠাৎ করে ঋষার দিকে তাকিয়ে দেখি ও আমাকে দেখে ফেলেছে। একেই হয়তো বলে ভালোবাসা। পাগলিটা আমার অস্তিত্ব ঠিকি বুঝে ফেলেছে। আমার দিকে তাকিয়ে খুব কাদছে পাগলিটা। হঠাৎ করেই কি যেনো হলো পুরো অন্ধকার হয়েগেলো। আমি পালিয়ে বাইরে চলে এলাম। অনেক দূরে এসে অন্ধকারে বসে আছি। চলবে...?


1 Comments
💟💟💟💟💟
ReplyDelete