হঠাৎ করেই কি যেনো হলো পুরো অন্ধকার হয়েগেলো। আমি পালিয়ে বাইরে চলে এলাম। অনেক দূরে এসে অন্ধকারে বসে আছি। হয়তো যখনি আলো জ্বলে উঠবে আমাকে খুজবে পাগলিটা।
আপনাদের মনে হয়তো প্রশ্ন জেগেছে ও বিয়েতে রাজি হলো কেনো যদি আমাকে আসলেই খুব ভালোবাসে? রাজি না হয়ে করবে কি বলেন? অনেক অবহেলা করেছি। অনেক কষ্ট দিয়েছি যেনো আমার জীবন থেকে চলে যায়। আমি চাই না আমার ভালোবাসার মানুষটা আমার এই অভিসপ্ত জীবনে জড়িয়ে নিজেও অভিসাপ পাক। আমি আর কই দিনি বা বাচবো?ও হয়তো শুনলে বলবে আমি যেই কদিন বাচবো ও সেই কদিন ই আমার বউ হয়ে থাকতে চাইবে? কিন্তু আমি মারা যাওয়ার পর যে সবাই ওকে বলবে এর আগেও একটা বিয়ে হয়েছে।তখন ওকেও হয়তো এমন একজন কে বিয়ে করতে হবে যে এর আগে বিয়ে করেছিলো বউ চলে গেছে বা মারা গেছে, দেখা গেলো বাচ্চাও আছে সাথে। সব দিক দিয়ে ভেবে দেখলাম আমার সামান্য কষ্ট দেওয়াতে যদি ও আমাকে ভূলে নতুন কারোর সাথে জীবনটা গুছিয়ে নিতে পারে তাহলে তো বিষয় টা খারাপ হয় না।
অন্ধকারে বসে থাকতে থাকতেই হঠাৎ করে মোবাইল এর পর্দাটা জ্বলে উঠলো। তাকিয়ে দেখলাম পাগলিটা মেসেজ কল দিছে৷ ধরবো কি ধরবো না ভাবতে ভাবতেই কলটা কেটে গেলো। কলটা কাটতে না কাটতেই আবার কল দিলো পাগলিটা। এইবার ধরলাম।
- হ্যালো...?
- হুম...
- কিরে কোথায় চলে গেলি তুই...?
- কই...?
- আয় দেখেযা যেখানে তুই বসেছিলি সেইখানে অন্য একজন বসে আছে। একটু পর আমাকে বিয়ে করে নিয়ে চলে যাবে। থাকতে পারবিতো আমাকে ছাড়া। ( রাগি গলায়)
- কেনো...? পারবোনা কেনো...?
- তুই অনেক সার্থপর রে। অনেক সার্থপর তুই৷ এই তুই আমার সেই তুই না। আমি এই তোকে ভালোবাসিনি। ( পাগলিটা কাদতে কাদতে)
- হয়তো।
- ফাত্তাহ একবার বল তুই শুধু একবার বল তুই আমাকে ভালোবাসিস। আমি এখনি চলে যাবো তোর কাছে। ফাত্তাহ আমি তোকে ছাড়া অন্য কাউকে স্বামী হিসেবে আমার জীবনে মেনে নিতে পারবো না। তুই শুধু এক বার বলনা ফাত্তাহ( কাদতে কাদতে)
- দেখ আমি অন্য একজন কে ভালোবেসে ফেলেছি। সম্ভব না আমার পক্ষে তোকে বিয়ে করা। তুই আমাকে ভূলে যা।
- তাই না...? এত সহজ ভূলে যাওয়া...?
- কেনো আমি তো তোকে ভুলে গেছি। কই আমার তো কষ্ট হয়নি। বলতে বলতেই আমি কেমন যেনো মাটিতে লুটে পড়ি ।
আমার যখন জ্ঞান ফিরে আমি দেখলাম হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছি। পাশে আমার বন্ধু বসে আছে। চোখে খুব রাগ ওর। দেখে। মনে হচ্ছে আমার উপরেই রেগে আছে। ভীষন রেগে আছে। মনে হচ্ছে আমাকে আজ ও মারবে। আমি নীরবতা ভেঙে কথা বলি...
- কিরে আমি এখানে কেনো...?
- বন্ধু চুপ।
- কিরে চুপ কেনো বল...
- উঠ এখান থেকে
কথা শেষনা করতেই আমার কলার ধরে টানতে টানতে ও বাহিরে নিয়ে যায়। সবাই হা করে তাকিয়ে আছে। আমি যেনো বিশাল বড় একটা অপরাধী। তারপর ওর বাইকে তুলে নিয়ে যায় সেই যায়গাটাতে। যেখানে আড্ডা বসতো আমাদের। আমরা সবাই মিলে ওনেক মজা করতাম। রাতের পর রাত বসে থাকতাম সেখানে। গিয়েই ও যেনো হাটু ভেঙে ধুপ করে মাটিতে লটিয়ে যায়।
- কিরে কি হলো...
-........................
- কথা বল। হঠাৎ এখানে আনলি যে...?
- আর কত অভিনয় করবি তুই...?
- কিসের অভিনয়...?
- ও পকেট থেকে আমার টেষ্ট গুলার রিপর্ট বের করে বলে এগুলা কি...?
- কই দেখি কি এগুলা...?
- এই নে...
- এগুলা তুই কই পেলি...?
- এগুলা আমি কইছি শুনবি...?
- হুম শুনবো জন্যই তো তোকে জিজ্ঞাসা করলাম।
- তোর মানিব্যাগ এ ছিলো...
- তুই আমার অনুমতি ছাড়া মানিবেগে হাত দিয়েছিস কেনো...?
- আগে বল এগুলা কি...?
- আমি কি জানি এগুলা কি...?
- আল্লাহ আমাকে যা দিয়েছে তাই লেখা আছে এখানে...
ও দুই হাত একজাগায় করে হাতের মধ্যে মুখ নিয়ে কাদতেছে। আমি গিয়ে ঘাড়ে হাতদিতেই আমার দিকে ঘুড়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে। আমিও কেদে দেই। আর তো বেশীদিন আমি ওদের সাথে আড্ডা দিতে পারবোনা। আর এখন সেইটা ৩ জন জানে। আব্বু বন্ধু আয়ান আর আমি। খুব কাদলাম তুই বন্ধু মিলে। মুখে কোন কথা ছিলো না। তারপর দুজনে গেলাম ওদের বাসায়। গিয়ে সাভাবিক হলাম। এবং ওকে বিস্তারিত বললাম।
২ মাস পর
আমি আর আয়ান রাস্তা দিয়ে হাটতেছি। সামনে দিয়ে রিকশা যাচ্ছিলো। কে যেনো বললো এই রিকশা থামো থামো। রিকশা থামলো। পেছন থেকে একজন ডাকদিলো আমার নাম ধরে। পেছনে ঘুড়তেই দেখি সেই ডক্টর যিনি আমার টেষ্ট করেছিলেন। এবং এখনো আমার ট্রিটমেন্ট করছেন। দ্রুত হেটে আমার দিয়ে এগিয়ে এসে হ্যান্ডশেক করলো।
- আরেহ ভাই আপনি এখানে...?
- হুম আমার তো এখানেই থাকার কথা। তুমি এখানে.../
- আমার বাসা এই পাশেই৷ আপনার এখানেই থাকার কথা মানে...?
- আরেহ আমি তো এই এলাকার জামাই। ২ মাস আগে বিয়ে করেছি এখানে বাবার এক বন্ধুর মেয়েকে।
- আরেহ বলেন কি...?
- হুম। আচ্ছা তোমার শরীর এখন কেমন...?
- এইতো আলহামদুলিল্লাহ আপনাদের দোয়ায় ভালো।
- আচ্ছা তুমি যেহুতো এখানেই থাকো তোমার ভাবিকে তো চেনার কথা। ঔইতো রিকশায় বসে আছে। চিলো পরিচয় করে দেই।
- হুম পরিচয় তো হতেই হবে। আমাদের এলাকার মেয়েকে বিয়ে করলেন আর তাকে দেখবোনা একটা কথা...
( তারপর গিয়ে রিকশার সামনে দাড়াতেই চমকে উঠি। এতো ঋষা। ও আমাকে দেখে চমকে উঠে। অর চোখের কোনে পানি টলমল করে উঠে। ডক্টর ঋষাকে বলে তোমাকে একদিন বলেছিলাম আমার এক রোগীর ব্রেইন টিউমার,বলেছিলাম না ওর বাবা ওকে জড়িয়ে ধরে হাওমাও করে কেদেছিলো। এই সেই রোগী। কথাটা শুনে ঋষা যেনো আকাশ থেকে পড়ে। ওখানেই অজ্ঞান হয়ে যায় ঋষা। এখনো ভিষন ভালোবাসে পাগলিটা আমায়। তা নাহলে আমার ব্রেইন টিউমার হয়েছে শুনেই অজ্ঞান হয়ে যেতো। দ্রুতো অকে সবাই মিলে ওর বাসায় নিয়ে যাই৷ তারপর আমি যত দ্রুত সম্ভব কেটে পড়ি।
সাথে সাথে বাসায় এসে ঘুমানোর চেষ্টা করি। চোখ বুজলেই শুধু ওর মুখটা ভেষে উঠছে। আগের থেকে এখন আরো সুন্দর হয়েছে পাগলিটা। কিছুতেই ঘুম আসছিলো না। খুব মাথাব্যাথা শুরু হয়ে যায়। সয্য না করতে পেরে ডাক্টারের দেওয়া ঘুমের বড়ি সব গুলা ভাঙি। কাভার টা বাইরে গিয়ে অনেক দূরে ফেলে দিয়ে আসি। ঘড়ে এসে খেয়ে ফেলি সব গুলো ঔষধ।
আবার ২ মাস পর
এখন আমার পাগলিটা আর সাভাবিক নেই। আমার মারা গেছি শুনে সাথে সাথে আবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলো৷ তারপর থেকেই পেরালাইজড। কোন রকম কোন জ্ঞান নেই ওর। তবে ডক্টর টা অকে খুব ভালোবাসে। এটা দেখে আমি শত সাস্তির মধ্যেও ভালো থাকি। যখন দেখি ডক্টর ওর খুব সেবা করতেছে। ওর মাথায় তেল দিয়ে দিচ্ছে। যখন দেখি ডক্টর ওকে কহাইয়ে দেয়। আমি বরাবর এটাই চেয়েছি। সে যেনো ভালোথাকে। খুব ভালোথাকে। আর সাথে আপনারাও ভালোথাকুন।


0 Comments